যশোরের আট উপজেলা ও পৌরসভার ১৮৩টি স্থানে গতকাল দেয়া হয়েছে টিসিবির পণ্য। ফ্যামিলি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে দুই লিটার তেল, পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি চিনি ও ডাল পাওয়ার কথা ছিল সুবিধাভোগীদের। তবে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ায় এদিন উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পণ্যের চেয়ে মানুষের সারি বেশি হওয়ায় অনেকেই খালি হাতে ফিরেছেন।
সদর উপজেলার উপশহর এফ ব্লকের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এসেছেন উপশহর ইউনিয়ন পরিষদে। এসে শোনেন পণ্য দেয়া হচ্ছে না। বন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে এক চৌকিদারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছিলেন। মাঝপথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছ বিক্রি করেই সংসার চলে আমার। শুনেছি আবার টিসিবির পণ্য দেবে। তাই প্যাকেট নিয়ে এসেছি; টিসিবির চাল, ডাল তেল নেব বলে। এসে দেখি পরিষদ বন্ধ। কোথাও কোনো লোক নেই।’
সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে দেখা গেছে লম্বা লাইন। রোদে মাথায় ছাতা, কেউবা প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে লাইন ছেড়ে ছায়ায় বসে ছিলেন।
নওয়াপাড়া ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার রুবায়েত ফেরদৌস। তিনি জানান, এখানে হাজার হাজার মানুষ। অথচ তার কাছে ৫৬৭ জনের পণ্য রয়েছে। যারা আগে আসবে বা যতক্ষণ পণ্য থাকবে তাদেরই দেয়া হবে। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভোগান্তি হলেও তাদের কিছু করার নেই।
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিয়ম হলো যারা কার্ডধারী তারা আগে পাবেন। আর কার্ডধারী উপস্থিত না থাকলে ভোটার আইডি কার্ডধারী ব্যক্তিদের দেয়া হবে। জেলায় টিসিবি কার্ডধারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। যতদিন আমাদের তালিকা হবে না, ততদিন এ প্রক্রিয়ায় আমরা পণ্য দিব। যারা কার্ডধারী নয়, তারা বিক্ষোভ বা কেন্দ্রে হট্টগোল না করে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে। উপশহর ইউনিয়নের বিষয়টি শুনেছি। দ্রুতই সেখানে পণ্য দেয়া হবে।’